রাজা বসন্ত রায় :
রাজা প্রতাপাদিত্যের পিতৃব্য। যশোহর রাজ্যের বিশিষ্ট কবি ও পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।
রাজা প্রতাপাদিত্য
বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম ছিলেন। সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ, শ্যামনগর অঞ্চল তার প্রাচীন যশোহর রাজ্যের রাজধানী ছিল। তাঁর সময়কার অনেক পুরাকীর্তি এখনো সাতক্ষীরাকে
গৌরবান্বিত করছে।
প্রতাপাদিত্য
নিজ এলাকার শ্রীবৃদ্ধি সাধনে নজর দেন। তিনি
ঈশ্বরীপুরে যশোরেশ্বরী মন্দির, চন্ডভৈরবের ত্রিকোণ মন্দির, হাম্মামখানা, টেঙ্গা
মসজিদ, বারদুয়ারি, রাজবাড়ি ইত্যাদি নির্মাণ করে নিজের রাজধানীকে রূপ দেন একটি সফল জনপদে। প্রতাপাদিত্য যে বাড়িতে বসবাস করতেন সে স্থানটি এখনও
প্রতাপ রাজপ্রাসাদ হিসেবে পরিচিত।
প্রাণনাথ রায়চৌধুরী :
আধুনিক সাতক্ষীরার স্থপতি বা রূপকার হিসাবে পরিচিত জমিদার প্রাণনাথ রায চৌধুরী
ছিলেন জমিদার বিষ্ণুরাম চক্রবর্তীর (পরে রায়চৌধুরী) পুত্র। নদীয়ার প্রসিদ্ধ জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের (
১৭১০-১৭৮২বা ১৭৮৩) মৃত্যুর পর তাঁর অধিকৃত জমিদারি পরগনাগুলো নিলামে উঠলে তাঁরই
কর্মচারী বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী বড়ুন পরগনা (এখনকার সাতক্ষীরা) কিনে নেন।১৭৯৭ সালে তিনি সাতঘরিয়া বা
সাতক্ষীরা এসে স্থায়ীভবে বসবাস শুরু করেন এবং রায়চৌধুরী উপাধি লাভ করেন। জমিদার প্রাণনাথ
সাতক্ষীরায় অনেক জনহিতকর কাজ করেন। তন্মধ্যে প্রাণ সায়ের খাল ও দিঘি খনন, রাস্তাঘাট নির্মাণ , ল্যাম্পপোস্ট
স্থাপন , বৃক্ষরোপন অন্যতম। ১৮৬৯ সালে সাতক্ষীরা মিউনিসিপ্যালিটি (বর্তমানে
পৌরসভা) স্থাপিত হলে তিনি প্রথম চেয়ারম্যান হিসাবে দীর্ঘদিন (কর্মকাল
১৮৬৯-১৮৯৪)দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরই নামানুসারে সাতক্ষীরাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রাণনাথ
(পিএন) হাইস্কুল (১৮৬২) এবং প্রাণনাথ ওয়াটার ওয়াকর্স(১৯১৯)।
রাজা হরিচরণ রায় চৌধুরী:
তিনি শ্যামনগরে তাঁর বসতি স্থাপন করেন। এ অঞ্চলের শিক্ষা প্রসারে অবদান রাখেন।
রাজা
প্রতাপাদিত্যের পরে হরিচরণ রায় ছিলেন শ্যামনগর অঞ্চলের প্রভাবশালী ও বিত্তশালী
জমিদার। তাঁর উদ্যোগে শ্যামনগরে তথা সমগ্র
সাতক্ষীরায় অনেক জনহিতকর কাজ হয়েছিল। তাঁর
সময়ে খনিত হয় অনেক জলাশয়। নির্মিত হয় অনেক রাস্তাঘাট, রোপিত হয়
অনেক বৃক্ষ। অনেক জমিদারের মতো হরিচরণ রায়
শুধু সম্পদ ও বিলাসে মত্ত না থেকে চেষ্টা করেছিলেন এলাকার মানুষকে শিক্ষিত করতে। তাঁর প্রত্যক্ষ সাহায্যে ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল
নকিপুর মাইনর স্কুলটি। যেটি বর্তমানে নকিপুর
পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় নামে খ্যাত।
রাজা যতীন্দ্র মোহন রায় :
রাজা বসন্ত রায়ের অধস্তন দশম পুরুষ উনবিংশ শতকের শেষার্ধে কাটুনিয়ায়
জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষালাভের পর
কাটুনিয়া রাজবাড়ীতেই বসবাস করতেন। তিনি ছিলেন সুবক্তা, চিন্তাশীল
লেখক,
বিদ্বান এবং বিপ্লবী। তৎকালীন খুলনা জেলায় তাঁর সমাজ সেবার নিদর্শন রয়েছে। তিনি কাটুনিয়ায় গোবিন্দ দেবের মন্দির
প্রতিষ্ঠা করেন।
ঠাকুরদাস মুখোপাধ্যায়(১৮৫১-১৯০৩) :
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার সারসা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।"ষাড়ানন শর্ম্মা" ছদ্মনামে
তিনি কলকাতার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সাহিত্যচর্চা করতেন। গদ্য-পদ্য উভয় রীতিতেই রসিকতার -মিশ্রিত
সাহিত্য রচনায় তিনি পারদর্শী ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি সমালোচক(পাক্ষিক),মালঞ্চ (পাক্ষিক),বংগবাসী(সাপ্তাহিক)
প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন । এছাড়া তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের নাম যথাক্রমে উদ্ভট
কাব্য(১৮৮৩), সাতনরী(১৮৮৮), শারদীয় সাহিত্য(১৮৯৬),শহরচিত্র(১৯০১) এবং সোহাগচিত্র(১৯০১)।
খান সাহেব আব্দুল ওয়ালী: (১৮৫৫- ১৯২৬)
তালা উপজেলার অন্তর্গত সরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রেজিস্ট্রেশন বিভাগে চাকরি করতেন। তিনি ছিলেন
বহুভাষাবিদ পন্ডিত । পাশাপাশি কাব্যচর্চা ও গবেষনায় সুনাম অর্জন করেন। তিনি ছিলেন প্রথম মুসলিম ভারত তত্ত্ববিদ । তিনি ফারসিতে কবিতা ও
ইংরেজিতে গবেষণা কর্ম পরিচালনা করতেন। গবেষণার জন্য তিনি খান সাহেব উপাধিতে ভূষিত হন।
ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৮৫১-১৯০৩) :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাবুলিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে ব্রিটিশ
সরকারের অধীন দ্বিতীয় আফগান যুদ্ধে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঝিলাম নদীর সেতু নির্মাণ করে
সম্মাননা স্বরুপ "রাও সাহেব" উপাধি পান।
শেখ আবুল কাশেম : (মৃত্যু ১৯৪৪)
তিনি প্রদেশিক ও বৃহত্তর খুলনা এলাকার অন্যতম মুসলিমলীগ সংগঠক ও নেতা ছিলেন। ১৯৩৭খ্রি:-এ তিনি
বাংলা প্রাদেশিক পরিষদে সদস্য ছিলেন । তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো ছিলেন ও জনহিতকর কাজের
জন্য সুনাম অর্জন করেন।
ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় (মৃত্যু ১৯৬২) :
দেবহাটা উপজেলার টাউন শ্রীপুর গ্রামে উনিশ শতকের শেষে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন
বিশ্বখ্যাত চিকিৎসক। পরে বিশিষ্ট বাগ্মী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রভুত
খ্যাতি অর্জন করেন। বৃটিশ বিরোধী
সংগ্রামে তাঁর অবদান অনস্বীকায্য। ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ১৯৬২ খ্রীস্টাব্দ পয্যন্ত আমৃত্যু
তিনি পশ্চিম বাংলার মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘকায় এই পুরুষ ছিলেন অকৃতদার।
খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ (১৮৭৩-১৯৬৫) :
কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামে ২৭ ডিসেম্বর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী স্বগ্রামেই ইহলোক ত্যাগ করেন । কর্মজীবনের শুরুতে
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সুপারনিউমারী শিক্ষকের পদে কিছুদিন কাজ করেন । পরে ভারতীয় শিক্ষা
বিভাগে যোগদান করে স্কুল সমূহের ডেপুটি ইন্সপেকটর হিসেবে ফরিদপুর ও বাখেরগঞ্জ ও পরে বিভাগীয় স্কুল ইন্সপেকটর পদ গ্রহণ করে দীর্ঘদিন
চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন । শেষে তিনি অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর
এর পদ অলংকৃত করেন , যে পদ কেবল ইউরোপিয়ানদের জন্য সংরক্ষিত ছিল । তিনি শিক্ষা
সংস্কারমূলক কাজের বাস্তব রুপায়নের জন্য বহু পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করেন । এ সময় তিনি ‘খান বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত
হন । ১৯৬০ সালে শিক্ষা ও
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি বাংলা একাডেমীর ‘ফেলো’ মনোনীত হন ।
খান বাহাদুর মাহমুদ আহমদ :
কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্সি ভাষায় এম,এ, পাশ করেন। পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এর চাকুরী গ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার
প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর ছিলেন। পরবর্তীতে জনহিতকর কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
আজিজুননেছা খাতুন ( ১৮৬৪-১৯২৬)
আজিজুননেছা খাতুন এর জন্ম পিতার কর্মক্ষেত্র বর্তমানে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার জালালপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন
স্বশিক্ষিত । প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষালাভের সুযোগ না ঘটলেও পারিবারিক পরিমন্ডলে নিজের চেষ্টায় বাংলা ও ধর্মীয়
শিক্ষা ছাড়াও ফারসি ও ইংরেজি ভাষা রপ্ত করেন। সাতক্ষীরার বাঁশদহ গ্রামের এক
সম্ভ্রান্ত-বিদ্যোত্সাহী পরিবারে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামীর উত্সাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর একমাত্র
কাব্য-পুস্তিকা " হারমিট" বা "উদাসীন" (১৮৮৪) প্রকাশিত হয় । স্বামীর মৃত্যুর পর
তালা থানার অন্তর্গত তেতুঁলিয়া গ্রামের আজিজুন্নেছার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দ্বিতীয় স্বামীর
মৃত্যুর পর বাঁশদহ গ্রামেই আবার তাঁর তৃতীয় বিয়ে হয়। আজিজুন্নেছা ছিলেন অধ্যবসায়ী, জ্ঞানপিপাসু ,বিনয়ী, নিরহঙ্কার ও পরোপকারী। তিনি ছিলেন প্র্রথম মুসলিম মহিলা কবি। তিনি পশ্চিমবঙ্গের
বসিরহাটে ইন্তেকাল করেন।
মাওলানা ময়েজউদ্দিন হামিদী (১৮৯৫-১৯৭০) :
কলারোয়া উপজেলার হামিদপুর(পাঁচনল) গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ফুরফুরা শরিফের পীর সাহেব ও বসিরহাটের
মাওলানা রুহুল আমীন সাহেবের সান্নিধ্যে এসে ইসলামের কাজে আত্ননিয়োগ করে ধর্ম
প্রচার এবং জনহিতকর কাজে অবদান রাখেন । তাঁর জনহিতকর কাজের মধ্যে রয়েছে কলারোয়া জামে মসজিদ,কলারোয়া ব্রীজ,হামিদপুর
আলিয়া মাদ্রাসা,মেহমানখানা, ছাত্রাবাস, টেলিগ্রাফ ও পোষ্ট অফিস ইত্যাদি । তিনি ছাত্রজীবন হতে ‘মোসলেম প্রভা’,‘হানীফা’,‘মোসলেম ও মাসিক হেদায়েত’ পত্রিকা সম্পাদনা এবং অনধীক ৪৬টি গ্রন্থ রচনা করেন । তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে খোৎবার বংগানুবাদ উল্লেখযোগ্য।
সৈয়দ জালাল উদ্দীন হাশেমী :( ১৮৯৫-১৯৪৭)
তালা উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ উত্তর পশ্চিম সীমান্ত
প্রদেশের অধিবাসি ছিলেন । বিশিষ্ট রাজনীতিক হিসাবে তিনি সুনাম অর্জন করেন। ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক পরিষদে অবিভক্ত বাংলা অইন
পরিষদ সদস্য ও পরে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তিনি কোলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন-এর ডেপুটি
মেয়র -এরও দায়িত্ব পালন করেন।
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী (১৮৯৬-১৯৫৪) :
সদর উপজেলার বাঁশদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । গ্রামের মধ্যে ইংরাজী স্কুল হতে বাল্য শিক্ষা সমাপ্ত করে নিকটবর্তী বাবুলিয়া উচ্চ ইংরেজী
স্কুল হতে বৃত্তি পেয়ে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করেন । পরবর্তীতে তিনি মাওলানা আকরাম খাঁ পরিচালিত
সাপ্তাহিক মোহাম্মদী পত্রিকায় সম্পাদনা বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকেন এবং লেখক
হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেন । গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ ও জীবনী প্রভৃতি বিভাগে তাঁর রচনাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
হচ্ছে স্বর্ণা নন্দিনী, মরুভাস্কর, শাহনামা, মহামানব মহসীন ও সিন্দাবাদ হিন্দবাদ ।
সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৮-১৯৭৫) :
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । স্থানীয় বি ডি ইংরেজী স্কুল হতে প্রবেশিকা পাশ
করে কলকাতার রপণ কলেজে অধ্যয়ন করেন । কর্মজীবনের শুরুতে কাজী নজরুল ইসলামের নবযুগ পত্রিকার সাথে
যুক্ত ছিলেন । কিছুদিন সরকারী
চাকুরী করার পর দেশ বিভক্তির পর ১৯৪৮-৫৩ পয্যন্ত তদানিন্তন রেডিও
পাকিস্তানে স্টাফ আর্টিষ্ট ছিলেন । ১৯৫৭ থেকে আজীবন দেশের প্রগতিশীল সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম
মূখপাত্র সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন । এ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি ত্রিশোত্তর ধারার
প্রগতিশীল মুক্ত সাহিত্য ধারার বিকাশ, আন্দোলন এবং
নতুন লেখক সৃষ্টিতে প্রেরণা দান করেন । তিনি একাধারে কবি,গীতিকার, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক এবং সর্বোপরি সাংবাদিক । তার রচিত অনধীক ২৭ খানি গ্রন্থের মধ্যে প্রসন্ন প্রহর (১৯৬৫),বাংলা ছাড় (১৯৭২),কবিতা গ্রন্থ, মালব কৌশিক (গান),মাটি আর অশ্রু (১৯৪২),নতুন সকাল (১৯৪৬),মাকড়সা
(১৯৬০), মহাকবি আলাওল(১৯৬৬)সহ বার্ণাড ম্যালামুড,থর্টন,ওয়াইল্ডার,ওমর খৈয়াম ও সিঙ্গের রচনার
অনুবাদ প্রসিদ্ধ । ১৯৭৫ সালের ৫ আগষ্ট
ঢাকার পি জি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।
আনিস সিদ্দিকী :
আশাশুনি উপজেলার দূর্গাপুর
গ্রামে ৬ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষার পর বারুলির উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়
থেকে ১৯৫১ সালে প্রবেশিকা পাশ করেন। স্বল্প প্রাচীন ও সাম্প্রতিক বিশ্বের বিশিষ্ট
চরিত্রাবলম্বনে ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনার দ্বারা তিনি প্রখ্যাত হয়েছেন এবং শিশু
পাঠক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে-
· যখন রানী ছিলাম · সংগ্রামী
সুকর্ণ · মহাযুদ্ধের নায়ক হিটলার · যমুনার তীরে · মহাজীবনের
টুকরো কথা
ডাঃ এম আর খান (জন্ম ১৯২৮) :
সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পি,এন স্কুল থেকে
কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা এবং কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এম,বি,বি,এস পাশ করেন। পরে এডিনবার্গ থেকে
এম,আর,সি,পি এবং এফ,আর,সি,পি সহ অনেক
ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকায় বেশ কয়েকটি হাসপাতালে সিনিয়র হাউস
অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ। তিনি একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক। সাতক্ষীরায় নির্মিত
শিশু হাসপাতাল তাঁরই অবদান। সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক পেয়েছেন।
নীলুফার ইয়াসমীন:
সাতক্ষীরার মুকুন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই সঙ্গীতানুরাগী পরিবারে লালিত । বাংলাদেশের অন্যতম
উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী । ব্যক্তিগত জীবনে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সঙ্গীত পরিচালক খান আতাউর রহমানের
স্ত্রী।
সাবিনা ইয়াসমিন :
সাতক্ষীরার মুকুন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । ছোটবেলা থেকেই সংগীত চর্চা করেছেন । বাংলাদেশের অন্যতম
বিখ্যাত জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সংগীতে অবদানের জন্য একুশে পদক পেয়েছেন ।
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়(জন্ম ১৯৪৬) :
শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুরে জন্মগ্রহণ করেন । নকিপুর হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন । বাংলাদেশের একজন
অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবৃত্তিকার । এই দেশে আবৃত্তিকে পৃথক শিল্প মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় করতে
তার ভূমিকা অনস্বিকায্য । তিনি একজন খ্যাতিমান অভিনেতা।
তারিক আনাম (জন্ম ১৯৫৩) :
সাতক্ষীরা শহরে জন্মগ্রহণ করেন । পি,এন,স্কুল, সাতক্ষীরা কলেজ এবং ঢাকা শহরে পড়াশুনা করেন । দিল্লীর ন্যাশনাল
স্কুল অব ড্রামার ডিপ্লোমা পেয়েছেন । ছাত্রাবাস থেকেই সাংস্কৃতিক সংগঠন কোরকের সাথে যুক্ত ছিলেন । বাংলাদেশের অন্যতম
টেলিভিশন ,মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা । বর্তমানে থিয়েটারের
সাথে যুক্ত আছেন ।
ফাল্গুনী হামিদ :
কালিগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন । সাতক্ষীরা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন । একজন বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী এবং বাংলাদেশ
টেলিভিশনের নিয়মিত অভিনেত্রী ।গ্রুপ থিয়েটারের সক্রিয় কর্মী ও সদস্য । তিনি একজন নাট্যকার ও নাট্য
নির্মাতা।
আফজাল হোসেন :
দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাগ্রহণের পর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত
হন। বাংলাদেশের অন্যতম
টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি একজন বিজ্ঞাপন নির্মাতা।
আবেদ খান :
সাতক্ষীরা শহরে জন্মগ্রহণ করেন । শিক্ষা লাভের পর সাংবাদিকতা শুরু করেন । বাংলাদেশের একজন
বিশিষ্ট সাংবাদিক । তিনি একজন জাতীয়
দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক।
রুহুল কুদ্দুস :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পাঁচরাখী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আগরতলা মামলার অন্যতম
অভিযুক্ত ছিলেন। এই জেলার প্রথম সি,এস,পি। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক। স্বাধীনতা উত্তরকালে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম
মুখ্য সচিবের পদ অলংকৃত করেন।
বিপ্লবী কেশবচন্দ্র সমাদ্দার :
ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে অংশগ্রহণের অপরাধে তাকে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আন্দামান
দ্বীপপুঞ্জে নিরবাসিত করা হয়। তিনি সারা জীবন অন্যায় শোষন-শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে
গেছেন। সাতক্ষীরা সদরে
সাতানী গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে সমাহিত করা হয়।
পচাব্দী গাজী :
বিশ্ব বিখ্যাত বাঘ শিকারী। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে জন্মগ্রহণ
করেন। তদানিন্তন
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও জার্মান চ্যাঞ্চেলরের সুন্দরবন পরিদর্শনে
গাইড হিসেবে কাজ করেন এবং পুরস্কৃত হন। তার প্রকৃত নাম আব্দুল হামিদ গাজী। পিতার নাম মেহের আলী গাজী। ১৯৯৭ খ্রীস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর :
পিতা-মরহুম
মঈনউদ্দিন হাসেমী । সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার
ঐতিহ্যবাহী তেঁতুলিয়া গ্রামে ২ জানুয়ারী ১৯৩৫ সালে জন্ম গ্রহণ করেন । স্থানীয় বি.দে স্কুল থেকে ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৫৫ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন । ১৯৫৮-১৯৫৯ সালে তিনি মার্কিন সরকারের আমন্ত্রণে লীডাস
এ্যান্ড স্পেশালিস্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। এই সফরে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের আর্ট মিউজিয়ামসহ বিভিন্ন
শিল্পকলা বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন করেন । ১৯৬৪ সালে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে একটি সমবায় ভিত্তিক বাণিজ্যিক আর্ট গ্যালারী
স্থাপন করেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন উল্লিখিত গ্যালারী পরিচালনা করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তদানিন্তন
পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিলের রাওয়ালপিন্ডি শাখার চারুকলার শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত
ছিলেন । তিনি ১৯৮৫ সালে চারুকলর অগ্রগতিতে
বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন । বিভিন্ন দেশে তার রক্ষিত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে প্রায় আনুমানিক ৬ হাজার
ওয়াটার কালার পেইন্টং এবং ১ হাজার ড্রইং ও মিশ্র শিল্প কর্ম । ১৯৮১ সালে জানুয়ারী মাসে উপমহাদেশে ঢাকায় প্রথম বারের মত আয়োজিত দ্বি বার্ষিক
এশিয়া চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশে শিল্পকলা
একাডেমীর চারুকলা বিভাগের সাবেক পরিচালক ছিলেন । এ যাবত কাল দেশে বিদেশে তার ৩৬টি একক চিত্র প্রদশনী
অনুষ্ঠিত হয়েছে । এছাড়া তিনি ৮০টির উপর যৌথ
প্রদর্শনীতে দেশে ও বিদেশে অংশগ্রহণ করেছে । আজীবন
সদস্য- বাংলা একাডেমী । তালা শিল্পকলা একাডেমীর
প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক । পৃষ্ঠপোষক-
সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল । উপদেষ্ঠা
ও আজীবন সদস্য সাতক্ষীরা জেলা জনসমিতি ঢাকা। তিনি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের গভর্নিং বডির সদস্য

Comments
Post a Comment